শুক্রবার। দুপুর গড়িয়ে আসছে। ঢাকার ৩০০ ফিট রোডে তখন অদ্ভুত এক নীরবতা—যেন শহর নিজেই নিঃশ্বাস আটকে রেখেছে। দোকানপাট আধা-বন্ধ, বাস–ট্রাকের শব্দ কম, মানুষ ছুটছে মসজিদের দিকে। আকাশটা অস্বাভাবিকভাবে ধূসর, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আজানের আগের সেই চেনা উত্তেজনা।
রাশেদ তার মোটরসাইকেলটা ধীরে চালাচ্ছিল। পেছনে বসে ছিল তার ছোট ভাই রিফাত। দুজনেই যাচ্ছিল পাশের মসজিদে। রাশেদ বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিল—আর মাত্র পাঁচ মিনিট।
ঠিক সেই মুহূর্তে দূর থেকে এক বিকট শব্দ। একটা দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাক, যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দানবের মতো ছুটে আসছে।
“ভাই…!”
রিফাতের কণ্ঠ শেষ হওয়ার আগেই—
ধুম!
সবকিছু যেন মুহূর্তে ভেঙে পড়ল।
ট্রাকটা প্রথমে একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দিল, কারটি ছিটকে পড়ল রাস্তার পাশে। এরপর একে একে রিকশা, মোটরসাইকেল—কেউ রেহাই পেল না। চারদিকে চিৎকার, ধোঁয়া, ধাতব গন্ধ আর মানুষের আর্তনাদ।
আজানের ধ্বনি তখন মসজিদের মাইকে ভেসে উঠেছে— “আল্লাহু আকবার…” কিন্তু সেই পবিত্র ধ্বনির সঙ্গে মিশে গেল মানুষের কান্না।
রাশেদ চোখ খুলে দেখে সে রাস্তায় পড়ে আছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। পাশে তাকিয়েই বুকটা ফেটে গেল—রিফাত নিস্তেজ, চোখ খোলা, কিন্তু কোনো নড়াচড়া নেই।
“রিফাত! উঠে দাঁড়া… নামাজ পড়তে যাবি না?”
কণ্ঠটা নিজেরই শোনা যাচ্ছিল না তার।
চারপাশে মানুষ ছুটছে—কেউ আহতদের তুলছে, কেউ ফোনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকছে। একজন বৃদ্ধ লোক রক্তমাখা হাতে বলছিলেন,
“শুক্রবারের দিনে আল্লাহ, এমন বিচার কেন!”
