w রোজা অবস্থায় সহ,-বাস, করে ফেললে কি করতে হবে:ইসলামের স্পষ্ট বিধান

রোজা অবস্থায় সহ,-বাস, করে ফেললে কি করতে হবে:ইসলামের স্পষ্ট বিধান

রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর সহবাস (যৌন মিলন) ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের ভিত্তিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে/ ১. কুরআনের নির্দেশনা কুরআনুল কারিম-এ আল্লাহ তাআলা বলেন: “রোজার রাতগুলোতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস বৈধ করা হয়েছে… আর ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর; অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর।” — সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭ এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়— রাতে সহবাস বৈধ ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (রোজার সময়) সহবাস হারাম ২. হাদিসের স্পষ্ট দলিল এক ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, “আমি ধ্বংস হয়ে গেছি; রমজানে স্ত্রী সহবাস করেছি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী শাস্তির ধাপগুলো হলো: কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) – ধারাবাহিক তিনটি বিকল্প ১. একটি দাস মুক্ত করা ২. তা সম্ভব না হলে টানা ৬০ দিন রোজা রাখা ৩. তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো বর্তমান সময়ে দাস প্রথা নেই, তাই সাধারণত ২য় বা ৩য়টি প্রযোজ্য। ৩. রোজা অবস্থায় সহবাস করলে কী করতে হবে? (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে: রোজা ভেঙে যাবে ঐ দিনের রোজা পরে কাজা করতে হবে সাথে কাফফারা আদায় করতে হবে (উপরোক্ত নিয়মে) আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে (খ) যদি জোরপূর্বক বা ভুলে ঘটে: জোরপূর্বক হলে (যেমন স্ত্রীর ক্ষেত্রে বাধ্য করা হলে) যার উপর জোর করা হয়েছে তার কাফফারা নেই ভুলে করলে অধিকাংশ আলেমের মতে সহবাস “ভুলে” হওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়; কারণ এটি সচেতন কাজ। তাই সাধারণত কাফফারা প্রযোজ্য হয় ৪. শুধু চুম্বন বা স্পর্শ করলে? যদি সহবাস না হয় এবং বীর্যপাত না ঘটে, তাহলে রোজা ভাঙবে না (তবে মাকরুহ) বীর্যপাত হলে রোজা ভেঙে যাবে; তবে শুধু কাজা, কাফফারা নয় (অধিকাংশ ফকিহের মতে) ৫. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ইচ্ছাকৃতভাবে তা নষ্ট করা গুরুতর গুনাহ। তাই— ফজরের আগে গোসল সম্পন্ন করা দিনের বেলা যৌন উত্তেজক আচরণ থেকে বিরত থাকা তওবা ও ইস্তিগফার করা উপসংহার রোজা অবস্থায় সহবাস করলে— ✔ রোজা ভেঙে যায় ✔ কাজা করতে হয় ✔ কাফফারা আদায় করতে হয় ✔ আন্তরিক তওবা অপরিহার্য ইসলাম শাস্তির পাশাপাশি তওবার দরজাও খোলা রেখেছে। তাই কেউ এমন ভুল করে ফেললে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী করণীয় সম্পন্ন করা উচিত। আপনি চাইলে আমি এ বিষয়টি খুতবার জন্য উপযোগী আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।

Post a Comment

Previous Post Next Post